শেষ জামানা

হাদিসে বর্ণিত রয়েছে শেষ জামানায় ফিতনা চরম আকার ধারণ করবে এবং তাতে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর দেখা যাচ্ছে আমরাই শেষ জামানায় রয়েছি এবং সেই সকল হাদিসে বর্ণিত ফিতনা একের পর এক ঘটতে দেখছি। বর্তমানে এ বিষয়ে অনেক আলেম-উলামারাই সচেতন তবে তার সংখ্যা এতই কম যে তা আঙ্গুল দিয়ে গণনা করা যাবে। কারণ শেষ জামানায় হক আলেমদের করুণ অবস্থা ও সংখ্যা কম হওয়ার কথাও হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ এসেছে। তাই শেষ জামানায় বেশির ভাগ আলেম-উলামাগণ এবং সাধারণ লোকজন ফিতনার মধ্যেই ডুবে থাকবে তা হাদিস থেকে খুবই স্পষ্ট। বর্তমানে এসকল ফিতনার মধ্যে অন্যতম একটি ফিতনা হচ্ছে গণতন্ত্র। হাদিসে এমন কোন বর্ণনা কোথাও ই খুঁজে পাওয়া যায় না যাতে বর্ণিত হয়েছে যে শেষ জামানায় গণতন্ত্র দিয়ে ইসলাম কায়িম হবে বা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করা হবে। উল্টা ফিতনার হাদিসগুলো, শেষ জামানা বিষয়ে হাদিসগুলো অধ্যায়ন ও গবেষণা করলে পাওয়া যায়, গণতন্ত্র একটি ফিতনা এবং তা দিয়ে ভ্রষ্টতা তৈরি হয়। যেমন বলা আছে-

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
يَكُوْنُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمُ يَحْضُرُونَ السُّلْطَانَ فَيَحْكُمُوْنَ بِغَيْرِحُكْمِ اللهِ وَلَا يَنْهَوْنَ فَعَلَيْهِمْ لَعْنَةُ اللهِ
“শেষ যুগে একটি জাতি আসবে, যারা এমন শাসকের কাছে যাতায়াত করবে, যারা আল্লাহর হুকুম বাদ দিয়ে মানবরচিত আইন দ্বারা বিচার ও শাসন করবে। তারা সে শাসককে এ থেকে বাধা দেবে না। তাদের ওপর আল্লাহর লা’নত বর্ষিত হোক।”
- (হাসান, আল-ফিরদাউস বি-মাসুরিল খিতাব (ইমাম দাইলামী): ৫/৪৫৫, হা. ৮৭২৭ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বৈরুত); ইসলামী জীবনব্যবস্থা, মুফতি তারেকুজ্জামান)
মুআজ বিন জাবাল (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
أَلَا إِنَّهُ سَيَكُونُ أُمَرَاءُ يَقْضُونَ لَكُمْ، فَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ أَضَلُّوكُمْ وَإِنْ عَصَيْتُمُوهُمْ قَتَلُوكُمْ
“...সাবধান! অচিরেই এমন কিছু শাসক আসবে, যারা তোমাদের ওপর বিচারকার্য পরিচালনা করবে (তাদের আইন দিয়ে)। তোমরা যদি তাদের আনুগত্য করো, তাহলে তারা তোমাদের পথভ্রষ্ট করে দেবে। আর যদি তাদের বিরোধিতা করো, তাহলে তারা তোমাদের হত্যা করবে।”
- (আল-মুজামুস সগীর, তাবারানি, ৭৪৯ (আল-মাকতাবুল ইসলামি, বৈরুত) হাদিসটি জইফ তবে বর্তমানে এটি সত্যে পরিনত হয়েছে যাতে কোন সন্দেহ নেই)
দেখা যায় এই বিষয়টি হুবহু মিলে যায় এই জামানায়। শেষ জামানার হাদিসগুলো যে কেউ ভালোভাবে অধ্যায়ন করবে সে এই কথাতে শতভাগ একমত হতে বাধ্য যে গণতন্ত্র ও তা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ক্ষমতা-আইন সবই এক ফিতনা এবং শেষ জামানায় যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমেই, জিহাদ-কিতালের মাধ্যমেই মুসলিমরা বড় বড় পরাশক্তিধর বিধর্মীদের পরাজিত করেই কেবল ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মাহদীর খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে। আর এটিই সেই হক তথা সত্য বিষয় যা আমরা বিশ্ব পরিস্থিতি দেখে এখন আন্দাজ করতে পারছি। গত ৫ বছর আগেও কেউ এ বিষয়ে কল্পনা করতে পারতো না কিন্তু এখন সামনে ৩য় বিশ্বযুদ্ধ হওয়া, মুসলিমদের সাথে পৃথিবীর সকল বিধর্মীদের যুদ্ধ হওয়া একটি স্বাভাবিক চিন্তায় পরিণত হয়েছে। আর ৩য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার মানে পৃথিবীর ৩ ভাগের ২ ভাগ মানুষ নিহত হওয়া। এই সকল বিষয়গুলো বিস্তারিত বিশদভাবে জানতে আমাদের প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত “আখীরুজ্জামান গবেষণা ও তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ” বইটি সবার পড়া উচিত। কারণ এ বই থেকেই আপনি জানতে পারবেন ফিতনার এই জামানায় আপনার করনীয় কি, কিভাবে এসকল ফিতনা থেকে বাঁচবেন।
বর্তমানে ফিতনা বিষয়ক অনেক বই, তাতে বর্ণিত হাদিসসমূহ এবং কিছু কিছু বইয়ের অনুবাদ যা বিভিন্ন প্রকাশনী করছে; এসবের মাধ্যমে আমাদের কাছে ফিতনা-শেষ জামানার বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট ধারণা নিয়ে আসছে। এ জামানায় কোনটি সঠিক আর কোনটি ব্যঠিক তা নির্ণয় করতে সাহায্য করছে। যে সকল বই, যে সকল হাদিস ও তা থেকে উপার্জিত জ্ঞান আমাদেরকে এই ফিতনার যুগে সঠিক রাস্তা দেখাতে পারবে তা আমাদের সামনে সঠিক সময়ে উপস্থিত হচ্ছে, তাকে আল্লাহর আরেকটি রহমতও বলা চলে। বর্তমানে ফিতনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বই অনুবাদ বাজারে এসেছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নুয়াইম বিন হাম্মাদ এর আল ফিতান, ইবনে কাছীর এর আন নিহায়া ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম, আবু আমর আদ-দানী এর আস সুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান। এছাড়াও সমসাময়িক লেখকদের বইও বাজারে পাওয়া যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ড. আরিফী এর মহাপ্রলয়, মাওলানা আসেম ওমর এর ৩য় বিশ্বযুদ্ধ, মাহদী ও দাজ্জাল। এছাড়াও অনেক লেখক, অনেক সচেতন লোক ফিতনা-শেষ জামানা বিষয়ে গবেষণাগ্রন্থ লিখছে। বর্তমান বিশ্বের ঘোলাটে পরিস্থিতিতে এই সকল বিষয়গুলো ইসলামের অন্যান্য সকল বিষয় থেকে গুরুত্ব পাচ্ছে।
একটি প্রশ্ন থাকতে পারে এরকম যে- আমাদের পরিচিত হাদিসগ্রন্থ যেমন বুখারী, মুসলিম তথা কুতুবে সিত্তাহ, ইত্যাদিতে বর্ণিত ফিতনা অধ্যায়গুলো কি যথেষ্ট নয়? এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যেতে পারে যে, (১) হাদিসগ্রন্থ মানেই শুধু এই কয়টি কিতাব তা নয়। অসংখ্য হাদিসগ্রন্থ, মুসান্নাফ, মুসনাদ, হাদিসের শরাহগ্রন্থ রয়েছে যা সবই হাদিস শাস্ত্রের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। শুধু মাত্র সেগুলোর তাহকীক মান ভালো হলেই মুহাদ্দিসদের নিকট সেগুলো একই পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য। (২) ফিতনা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট হাদিসগুলো নিয়েই লেখা বই, তাতে অসংখ্য বিষয় পাওয়া যায় যা অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ হয়নি। অনেক সময় দেখা যায় এসকল কিতাব বুখারী-মুসলিম কিতাবেরও অনেক আগের লেখা এবং খোঁজ করলে দেখা যায় কিছু তাদের উস্তাদদের লেখা। তাই তাদের হাদিসগ্রন্থগুলো কোনভাবেই কম গ্রহণযোগ্য মনে করা যাবে না। আর ফিতনা বিষয়ে আরো জানতে তাদের কিতাবগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সকল কিতাব আমাদের নতুন নতুন বিষয় অবগত করে যা আগে পাওয়া যায় নি।
 

 

Comments

Popular posts from this blog

জন্মই যেখানে আজন্ম পাপ

ধেয়ে আসছে গাজওয়াতুল হিন্দ!